নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ঈশ্বরগঞ্জে ঝাড়ু মিছিল


ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, ৩০ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল-আমিন সম্পাদক হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত ১৩৩ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই কমিটি নিয়ে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ- আঠারবাড়ী সড়কের সরিষা এলাকায় ঝাড়ু মিছিল বের হয়। এ সময় তারা ঝাড়ু হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত উপজেলা কমিটির সভাপতি শেখ ওয়ালি উল্লাহ রাসেলকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী দাবি করে সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সায়মনকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে উপজেলা ও জেলা কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানান নেতা কর্মীরা।
পদবঞ্চিত ও অবমূল্যায়িতদের অভিযোগ, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে জেলা কমিটি ব্যক্তিস্বার্থে বিতর্কিত কমিটি ঘোষনা করেছে।যাদের একাধিক সদস্য ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও বিবাহিত ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
নবগঠিত কমিটি ঘোষণার পরপরই সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সিজান। ঝাড়ু মিছিলের বিষয়ে জানতে চািলে তিনি এক ক্ষুদে বার্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ভিডিও দেখেছেন, তবে এ কর্মসূচির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি আরো বলেন, “যোগ্য, ত্যাগী ও নির্যাতিত অনেক নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে তৃণমূলে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের প্রতিবাদের পদ্ধতিকে আমি সমর্থন করি না। বিতর্কিত এই কমিটির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
মুঠোফোনে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ওয়ালি উল্লাহ রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কেউ প্রমাণ দিতে পারবে? এ ধরণের নিউজ হলে আমি যা করার তাই করবো।’
মুঠোফোনে কথা হলে, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সায়মন জানান, কমিটিতে অনেকেই পদবঞ্চিত হতে পারেন। ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়নের চেষ্টা করবো। তবে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রবিউল আজম বলেন, ‘মিছিলের বিষয়টি আমার জানা নেই।’



