মুন্সিগঞ্জ

শ্রীনগরে চলছে ধান মাড়াই-ঝাড়াই ও শুকানোর কর্মযজ্ঞ

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিল পাড়ে চলছে মৌসুমের শেষ মূহুর্তের ধান মাড়াই, ঝাড়াই, রোদে শুকানোর কাজ। সোনালী ফসল ঘরে তুলবার লক্ষ্যে এ অ লের বিভিন্ন মাঠ, বাড়ির আঙ্গিণা ও সড়কের পাশে গোলায় ধান তুলতে স্থানীয় কৃষাণ-কৃষাণিরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

বির্স্তীণ আড়িয়ল বিল এলাকার বাড়ৈখালী, শ্রীধরপুর, মদনখালী, শ্যামসিদ্ধি ও গাদিঘাটের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান সংরক্ষণে কাজ করছেন। কৃষক পরিবারগুলো তাদের বছরের খোরাকির চাল প্রস্তুত করতে স্থানীয় রাইস মিলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। তবে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় হাটবাজরে রাইস মিলগুলোতে ধান নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামসিদ্ধি ও গাদিঘাট এলাকার খেলার মাঠে-ঘাটে ও সড়কের পাশে রোদে ধান শুকানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা মাড়াইকৃত ধান ঝাড়াই করাসহ গোলায় তুলছেন। অপরদিকে বাড়ৈখালী এলাকার বিভিন্ন সরিষা আবাদের জমিতে রোপণকৃদ পরিপক্ক ধান এরই মধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। এসব ধান বোঙ্গা মেশিনে মাড়াই করতে দেখা গেছে। এ বছর অধিক ঝড়-বৃষ্টি না হওয়া ও শুষ্কু মৌসুমের কারণে কৃষক নিবিঘেœ কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। প্রচন্ড গরম ও তাপদাহ উপেক্ষা করে ধান সংরক্ষণে দিন পাড় করছেন।

শ্যামসিদ্ধি গ্রামের আব্দুল হক বলেন, কিছুকিছু জমিতে জলাবদ্ধতার জন্য ধান চাষে বিড়ম্বনার শিকার হন তারা। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও জোয়ারের পানি না আসায় পাকা ধান কাটতে পারছেন। এ অ লে ধান কাট শেষ হয়েছে। সবাই এখন ধান শুকিয়ে ঝাড়াই করছেন। খাবারের ধান রেখে অতিরিক্ত ধান বিক্রি করা হচ্ছে। গাদিঘাটের মিলন মন্ডল বলেন, কৃষক পরিবারের লোকজন ফসল সংরক্ষণ কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকছেন।

এ বছর গরম তাপদাহের পরিমান বেশী হলেও শুষ্ক আবহাওয়া থাকার ফলে ধান নিয়ে তেমন কোন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। কৃষাণ-কৃষাণিরা শান্তিতে ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে পারছেন। বাড়ৈখালী এলাকার স্বাধীন মিয়া জানান, মদনখালী ও শ্রীধরপুরে সরিষা আবাদি জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছিল। এসব জমিতে পাকা ধান কাটা হচ্ছে। বিলে জোয়ারের পানি না থাকায় শান্তি ধান কাটতে পারছেন।

মৌসুমের শেষ মূহুর্তে শুধু ধান মাড়াই-ঝাড়াই ও শুকানোর কর্মযজ্ঞ চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে ২৮ জাতের ঝাড়া-শুকনা প্রতি মণ ধান কেনাবেচা হচ্ছে ১২০০-১২৫০ টাকা করে। ২৯ জাতের ধানের দাম কিছুটা কমদামে বিক্রি হচ্ছে। এ অ লে হাইব্রিড জাতের ২৮ ও ২৯ জাতের ধানের চাষ বেশী করা হয়। শ্রীনগরে এ বছর ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিখ্যাত আড়িয়ল বিলের শ্রীনগর অংশেই ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ধানের চাষ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলায় এবার ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৫৬০ মেট্রিকটন। ধান ক্ষেতের প্রদর্শনী ছিল ৫০টি। সরকারিভাবে কৃষকের প্রতি কেজি ধান ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ