মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে নিম্নমানের পুরনো ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের ডালু চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে দক্ষিণ রাঙ্গামালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ও পুরনো ইট-সুরকি দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট ও সুরকির মান অত্যন্ত নিম্নমানের। স্থানীয়রা হাতে নিয়েই ব্যবহৃত ইটের সুরকি ভেঙে ফেলছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া পচা ইটও নতুন রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারও স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, পচা ও নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এ ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আপনারাও দেখতেই পাচ্ছেন, এগুলো একেবারে পচা ইট। এগুলোর কোনো নম্বরই নেই। এসব ইট দিয়ে কাজ করলে রাস্তা টিকবে না।’

রাস্তা নির্মাণকাজের সাইটে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে ঠিকাদার না দাবি করে বলেন, ‘আমি ঠিকাদার না, আমি লেবার সাপ্লাই দিই। মালগুলো অনেক নিম্নমানের—এটা আমিও শুনছি।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লরিং এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রানা বলেন, ‘এই ইটগুলো এই রাস্তা থেকেই তোলা হয়েছে। এগুলোর জন্য আমাদের কাছ থেকে আট লাখ টাকা কেটে নেওয়া হবে। তাহলে এগুলো আমরা কী করব? এগুলো কি বাড়ি নিয়ে যাব? এগুলো দিয়েই এখানেই কাজ করব।’

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লোক পাঠিয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কত টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজটি হচ্ছে এবং কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র দেখে কথা বলতে হবে। আপনি অফিসে আসেন।’

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হোক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ