জামালপুরে জানালা দিয়ে পানি চাইল শিশুরা, তালা ভেঙে মিলল মায়ের মরদেহ


আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আাদাত উল করীম: জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান মাম্মী (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাততলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসরাত জাহান মাম্মী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। তাদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
জানালা দিয়ে চিৎকার দুই শিশুর পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরাত ও তার স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন প্রায় এক মাস আগে কলাবাগান এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের সাততলা ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া ওঠেন। শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় একটি মনোহারি দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। শনিবার রাতে শাওন বাসায় ফেরার পরও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাওন দুই সন্তানকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ইসরাতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে সকালে শাওন সন্তানদের ওই কক্ষ থেকে বের করে দেন। এরপর ‘তোমরা থাকো, আমি চলে গেলাম’ বলে তিনি বাসার মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
এর কিছুক্ষণ পর দুই শিশু তাদের মাকে পড়ে থাকতে দেখে জানালা দিয়ে চিৎকার করতে থাকে। স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা জানালা দিয়ে পানি চায় বলেও স্থানীয়রা জানান।
শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা বাসাটির কাছে গিয়ে দেখেন, মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইসরাতের মরদেহ উদ্ধার করে।
‘বাবা-মায়ের সবসময় ঝগড়া হতো’ নিহতের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার সিনহা জানায়, তার বাবার অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন বিষয় নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শনিবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
সামিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ঝগড়ার পর বাবা তাকে ও তার ভাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে বাবা দরজা খুলে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা থাকো, আমি চলে গেলাম।’ এরপর তিনি বাইরে থেকে বাসার দরজায় তালা দিয়ে চলে যান। পরে তারা জানালা দিয়ে চিৎকার করতে থাকে।
এক মাস আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন
বাসার মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ইসরাত ও তার স্বামী প্রায় এক মাস আগে তার বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ভাড়া দেওয়ার সময় তিনি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেননি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র না নেওয়াটা আমার ভুল হয়েছে।’
হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ পুলিশের
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে।



