মুন্সিগঞ্জ

শ্রীনগরে ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

আরিফুল ইসলাম শ্যামল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে চলছে আগাম ধান কাটার প্রস্তুতি। তবে মৌসুমের শেষ সময় আধা-পাকা ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। রোগটির আক্রমণে ধানের শীষের গোড়া ও গীট ভেঙ্গে পড়ার পাশাপাশি রোগটি পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ধান চীটা হয়ে যাচ্ছে। এতে কাঙ্খিত ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শস্য ভান্ডার খ্যাত আড়িয়াল বিলসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন চকব্যাপী এখন শুধুই সোনালী ফসলের সমারোহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশী জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বির্স্তীণ আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর অংশেই প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ধান চাষ করা হয়। ধান প্রায় পরিপক্ক হয়ে গেছে। সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক। ধারনা করা হচ্ছে বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে এ অ লে ধান কাটা উৎসব শুরু হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আড়িয়াল বিল এলাকার বাড়ৈখালী, ষোলঘর, গাদিঘাট, আলমপুর, শ্রীধরপুর, মদনখালীতে বেশীর ভাগ জমিতে ধান পেকে গেছে। এসব ধান কাটতে সংশ্লিষ্ট কৃষি শ্রমিক আনা হচ্ছে। ধান কাটা ও মাড়াই কাজের জন্য গৃহস্তরা আধুনিক যন্ত্রপাতি গোছাচ্ছেন। বড় গৃহস্তরা বোঙ্গা মেশিন নামক ধান মাড়াইয়ের নতুন যন্ত্র কিনে আনছেন। বিল পাড়ের কৃষকরা জানান, ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দ্রæত ধান কাটার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বৈশাখ মাসের শুরুতেই জমিতে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

ব্লাস্ট রোগমুক্ত জমিতে বিঘা প্রতি ২৮-৩০ মণ ধান উৎপাদণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তারা। উপজেলার সদর এলাকার গোল্ডেন সিটি, পাটাভোগ, খৈয়াগাঁও, বীরতারাসহ বিভিন্ন চকে অনেক জমিতে বøাস্ট রোগে আক্রমণ দেখা দিয়েছে। রোগটির আক্রমণে জমিতে আধা-পাকা ধানের ছড়া গীট থেকে ভেঙ্গে যাচ্ছে।

শ্রীনগর সদর এলাকার হরপাড়ার আব্দুল আউয়াল বলেন, ১৫ গন্ডা জমিতে (১০৫ শতাংশ) ধাণ চাষ করেছি। ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেই আধা-পাঁকা ধান কেটে নিচ্ছেন।

দক্ষিণ পাটাভোগের শেখ দেলোয়ার, শেখ মালেক, মো. কামরুল জানান, পাটভোগ চকের ধান এখন আধা কাঁচা। এ চকের প্রায় জমিতেই ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদণ অর্ধেকে নেমে আসবে।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহসিনা জাহান তোরণ জানান, সারা বাংলাদেশেই ব্লাস্ট রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২৮ জাতের ধানের জমিতে রোগটির আক্রমণ বেশী। রোগটি দমনে জমিতে ছত্রানাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলায় ধান উৎপাদণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। এতে প্রদর্শনী ক্ষেত রয়েছে ৫০টি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ