আন্তর্জাতিক

হরমুজে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই জাহাজে হামলা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেলবাহী দুটি বিশাল সুপারট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে ওমান উপকূলে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পর পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

দুটি জাহাজে মোট ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। হামলায় জাহাজের নাবিকদের কোনো ক্ষতি না হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফেই অনেক বেড়ে গেছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থাগুলো জানায়, আক্রান্ত ‘সিদর’ ও ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের জাহাজ দুটি গত সপ্তাহে সৌদি আরবের জুয়াইমা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করে রওয়ানা দিয়েছিল। ওমানের খাসাব এলাকা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তু দিয়ে সেগুলোতে আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে ট্যাংকার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই হামলা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমুদ্রপথটি বেশ কিছুদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। কাতার ও ওমান মধ্যস্থতা করে পথটি আবার সচল করার চেষ্টা করলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিশ্ব বাজারের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত আগস্টে সৌদি আরব সীমিত পরিসরে আবার তেল পাঠানো শুরু করলেও নতুন করে এই হামলায় সব অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল।

এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজ আটকে দিয়েছে। এই হামলা ও নতুন সামরিক হুমকির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ