জামালপুর

জামালপুরে ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম : জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি বাজার এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় প্রায় ৯০০ কেজি (২২ দশমিক ৫ মণ) ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। এ ঘটনায় ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে ছয় মাস করে এবং মিনি ট্রাকের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনের ওপর সর্বমোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে জামালপুর সদর থানাধীন ৬ নম্বর নরুন্দি ইউনিয়নের নরুন্দি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নরুন্দি বাজার এলাকায় একটি মিনি ট্রাকে করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘোড়ার মাংস পরিবহনের খবর পেয়ে নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় সংরক্ষিত প্রায় ৯০০ কেজি মাংস পাওয়া যায়। পরে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে এবং মাংসসহ সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চর দোবকান্দির আলফাজ (৪৫), মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ির হুমায়ুন (৪৭), গোপালপুরের ডোবাকান্দির মো. শহিদ মিয়া (৩০), জামালপুরের সরিষাবাড়ীর জুয়েল (৪০) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল এলাকার মো. তাসির (৩০)।

পরে জামালপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান।

মোবাইল কোর্টের রায়ে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আলফাজ, হুমায়ুন ও শহিদ মিয়াকে প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আলফাজকে ২৫ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আরও ১০ হাজার টাকা, হুমায়ুনকে ২০ হাজার টাকা ও আরও ১০ হাজার টাকা এবং শহিদ মিয়াকে ২০ হাজার টাকা ও আরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অন্যদিকে, জুয়েল ও তাসিরকে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনের ওপর আরোপিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বমোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দ করা প্রায় ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, নরুন্দি বাজার ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রি প্রতিরোধে বাজার এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জনসাধারণকে খাদ্যপণ্যের মান ও উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো খাদ্যপণ্য বা কার্যক্রম চোখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ