জামালপুর

পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুরে নেতাকর্মীদের আনন্দ উচ্ছ্বাস

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম: জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সরকারি তথ্যেও ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

মিল্লাতের পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার খবরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আনন্দ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জামালপুরের একজন সংসদ সদস্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হওয়া জেলার জন্য গর্ব ও মর্যাদার বিষয়। তারা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে মিল্লাত দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি জামালপুরের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মিল্লাতের পূর্ণমন্ত্রী হওয়া জামালপুরের মানুষের জন্য আনন্দের খবর। নতুন দায়িত্বে তিনি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবেন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
আফজাল হোসেন বলেন, একজন জামালপুরের সংসদ সদস্য পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় তারা আনন্দিত। বিশেষ করে বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছেন।

মোবারক হোসেন বলেন, মিল্লাতের এই পদোন্নতি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তিনি নতুন দায়িত্বে সফল হবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর জামালপুরের একজন জনপ্রতিনিধি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এলাকার উন্নয়নেও নজর দেবেন বলে আশা করেন।

এনামুল হক বলেন, দেশের বিমান যোগাযোগ, পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মিল্লাত এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, মিল্লাতের পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার খবরে তারা খুশি। তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবেন এবং জামালপুরের উন্নয়নেও অবদান রাখবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

নারীদের পক্ষ থেকে নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, মন্ত্রিসভায় জামালপুরের একজন জনপ্রতিনিধির পদোন্নতি জেলার মানুষের জন্য গর্বের। তিনি পর্যটন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগী হবেন বলে আশা করেন।
আফরোজা নাজনীন বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নের সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও জড়িত। নতুন দায়িত্বে মিল্লাত এ খাতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে মেহেরাব হোসেন বলেন, দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাত তরুণদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মিল্লাত আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিলে তরুণ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

এদিকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিল্লাতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর পূর্ণমন্ত্রী হওয়াকে তারা দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন, তেমনি জামালপুরের জন্যও একটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
উল্লেখ্য, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি প্রায় দুই দশক পর সংসদে ফেরেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্বকে ঘিরে এখন জামালপুরবাসীর প্রত্যাশাও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশা, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ