ভোলা

ধুলোবালিতে শিশুদের হাঁচি-কাশি: প্রতিবাদ করায় ভোলার হাসপাতালে কৃষি কমকর্তা লাঞ্ছিত

​ইয়ামিন হোসেন : ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মরত।

​স্থানীয় ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নামে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও চিকিৎসক ও নার্স সংকটে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসা সেবার এই বেহাল দশার পাশাপাশি আউটসোর্সিং ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মচারীদের বেপরোয়া আচরণ ও দাপটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।

​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন জানান, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের পাশেই মিঠুন নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এতে পুরো ওয়ার্ড ধুলোবালিতে অন্ধকার হয়ে পড়ে এবং শিশুদের কাশি শুরু হয়। মানবিক কারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে রাতের বেলা ঝাড়ু দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আপনার বাচ্চা না থাকতে পারলে নিয়ে যান।” একপর্যায়ে ধুলোর তীব্রতা বোঝাতে গেলে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী মারমুখী হয়ে রাব্বি নামের তাদের এক নেতাকে ডেকে আনেন।

​পরবর্তীতে তাঁকে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও সেখানে থাকা চিকিৎসক এবং পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক ড. তৈয়বুর রহমান কোনো কথা না শুনেই ভোলার মানুষকে কটূক্তি করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একই সময়ে তাঁদের পক্ষাশ্রিত এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীকে হেনস্তা ও জেরা করতে থাকেন।

​এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মামুন মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থেই আমি মোবাইলটি নিয়েছিলাম।”

​অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা ও ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. তৈয়বুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​ভোলা সদর হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরও সংবাদ