ইলিশের রাজধানীখ্যাত জেলায় এখন ‘স্বর্ণমূল্য’: ৪ দিনের ঘামেও মিলছে না এক ইলিশ


ইয়ামিন হোসেন, ভোলা : চারিদিকে মেঘনা আর তেঁতুলিয়া নদীর রুপালি ঢেউ, অথচ সেই নদীঘেঁষা জেলা ভোলার বাজারগুলোতে এখন ইলিশের চড়া দামে যেন আগুনের উত্তাপ। ভরা মৌসুমেও ভোলার স্থানীয় বাজারে জাতীয় মাছটির দর আকাশছোঁয়া। নদীতে ইলিশের তীব্র আকালের সুযোগে মাছটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য মহার্ঘ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিনে ৭০০ টাকা হাজিরা পাওয়া কাঠমিস্ত্রী কালু মিয়ার মতো একজন সাধারণ দিনমজুরের টানা চার দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পুরো ২৮০০ টাকা আয় ঢেলে দিলেও এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ মিলছে না।
ভোলা সদরসহ বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে এখন ১ কেজি বা তার চেয়ে কিছুটা বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪শ থেকে ২৮শ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি হাকা হচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজারে, এবং ছোট সাইজের ইলিশও ১২শ থেকে ১৫শ টাকার নিচে নামছে না। স্থানীয় শিবপুরের মাছ ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া এবং ট্রলারের জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণেই মূলত ইলিশের এই অগ্নিমূল্য।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, নদীদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে ছোট-বড় অসংখ্য ডুবচর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তবে খুব দ্রুতই জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
তবুও মূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে নদী পরিবেষ্টিত এই জেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের রান্নাঘর থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ইলিশের সেই পরিচিত স্বাদ ও সুবাস, বাজারে এসে দরদাম করে খালি হাতে ফিরে যাওয়া খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিদিনের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। যে ইলিশ একসময় সাধারণ মানুষের সহজলভ্য খাবার ছিল, তা আজ নাগালের বাইরে চলে গিয়ে পরিণত হয়েছে শুধুই আক্ষেপের নাম।



