খুলনা ওয়াসার ২,৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি নিয়োগ নিয়ে ধুম্রজাল


আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান : এক-দুই কোটি নয়, প্রায় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদ ঘিরে শুরু থেকেই চলছে নানা আলোচনা ও প্রতিযোগিতা।
সবশেষে গত ২৯ জুলাই খুলনা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফিরোজ শাহকে প্রকল্পটির পিডির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হওয়ায় একটি জটিল ও কারিগরি প্রকল্পের নেতৃত্বে তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
প্রকল্পটি অনুমোদনের পর থেকেই পিডি পদে নিয়োগ নিয়ে নানা তৎপরতা শুরু হয়। এর আগে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামকে ঘিরেও পিডি পদে দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনা ছিল। একপর্যায়ে তাকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে মন্ত্রণালয় থেকে সেই দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়।
রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে গ্রাহকের মিটার চুরি, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে ৯৪ কোটি টাকার চেক ইস্যুর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে গত ১৩ জুলাই রেজাউল ইসলামকে ফেজ-২ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। এসব নিয়োগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিপুল অর্থের কারণে পিডি পদটি নিয়ে এতটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে পিডি পদে ‘এত মধু কেন’—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে খুলনা ওয়াসার ভেতরে-বাইরে। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



