রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে সরঞ্জাম ফেলে পালাল চক্র


ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কাজ ফেলে পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের ধ্বংসের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের দাবি, তাঁর বাড়ির সামনে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে চার মাস আগে অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান তছলিমের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় দ্রুত খুঁটি সরানোর চুক্তি হয়। দুই কিস্তিতে টাকা দেওয়ার পর শুক্রবার রাতে ৮-১০ জন লোক নিয়ে এসে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করা হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ফখরউদ্দিন ভুঁইয়া অফিসে ফোন করেন। পরে লাইনম্যান মাসুদ রানা ও লাইন টেকনিশিয়ান মৃদুল জোয়ারদার ঘটনাস্থলে গিয়ে খুঁটি সরানোর কাজ দেখতে পান এবং বিষয়টি অফিসকে জানান।
পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পল্লী বিদ্যুৎ ঠিকাদারদের ফ্লোরম্যান পরিচয় দেন। তিনি জানান, রুহুল আমিন তাঁকে ওই কাজে নিয়ে এসেছেন। তবে কাজটির বৈধতার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
রুহুল আমিন দাবি করেন, ইলেকট্রিশিয়ান তছলিম তাঁকে সেখানে নিয়ে যান এবং গিয়ে তিনি কাজটি অবৈধ বলে জানতে পারেন। তবে তছলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আনোয়ারের সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জিএম নূর মোহাম্মদ জানান, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



