শাহজাদপুরে হুমকির মুখে তাঁতশিল্প, লোকসানে দিশেহারা তাঁত মালিকরা


মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখে পড়ে বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। মোগল আমলে যাত্রা শুরু করা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাটখ্যাত এই অঞ্চলের তাঁত শিল্প একসময় লাখো মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল। তবে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যেখানে হাতে চালিত তাঁতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার, বর্তমানে তা কমে বড়জোর ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। ফলে ১ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি তাঁত শ্রমিক ইতিমধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শাহজাদপুরের তাঁত শিল্প হুমকির মুখে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে সুতা ও রঙের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
এ বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে সুতা ও রঙের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।আগে যে এক বেল সুতার দাম ছিল ১৬,৫০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০,৫০০ টাকায়। এ কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দিগুন হয়েছে বলে জানা গেছে। কাঁচামালের দাম বাড়ায় ৩ মাস আগে যে কাপড় তৈরিতে ৩০০ টাকা খরচ হতো, এখন তা উৎপাদনে প্রায় ৫০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এছাড়াও , কাপড়ের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে সেই তুলনায় সঠিক মূল্য পাচ্ছে না তাঁতিরা। গত এক বছরে স্থানীয় হাটে তাঁতের কাপড়ের বেচাকেনা ও পাইকারি বিক্রি প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দেশের বাজারে অবৈধ উপায়ে আসা সস্তা ও নিম্নমানের ভারতীয় কাপড়ের আধিপত্য এবং দেশীয় পাওয়ারলুমের সস্তা কাপড়ের সাথে হস্তচালিত (হ্যান্ডলুম) ঐতিহ্যবাহী তাঁত টিকতে পারছে না। তা ছাড়াও প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছা রপ্তানি হতো। কিন্তু দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে রপ্তানি অর্ধেকে নেমে আসায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান।
এছাড়াও অনেকে ব্যবসায়ী জানান , লোকসানের মুখে পড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁত মালিকরা পুঁজি হারিয়ে ফেলছেন। সরকারিভাবে স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত ঋণ প্রণোদনা না পাওয়ার কারণে নতুন করে সুতা কেনার অর্থ থাকছে না তাদের কাছে।
তবে কাপড় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আধুনিক ডিজাইনের ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ডিজাইনার বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সাপোর্ট না থাকায় যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছে না এই শিল্প।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর তাঁত সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে বার বার ফোন করে মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।



