নারীকে কুপিয়ে হত্যা: ২০০ কিলোমিটার দূরে ড্রামে ফেলে এসেও রক্ষা পেল না ৪ আসামি


আরফান আলী, শেরপুর: শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে সেতুর নিচে ফেলে যাওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় ও অপরাধ আড়াল করতে লাশ প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে আসেন আসামিরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
রোববার (১ নভেম্বর) পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম এ তথ্য জানান।
নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে। গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে নীল রঙের একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতসহ বিভিন্ন জখমের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ২৩ অক্টোবর শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
পিবিআই জানায়, মামলার ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে প্রথমে ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজল (৪৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর একই এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, নিহত ঝিনুক টঙ্গীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর সজল ও নুর ইসলাম ওরফে বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকার উত্তরখান এলাকার কবিরশাহ মাজারে যান তিনি। সেখান থেকে তাঁকে দক্ষিণখানের মৌশাইর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে তাঁর দৈহিক সম্পর্ক করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনুক চলে যেতে চাইলে মাহবুবা আক্তার তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেন। কিন্তু ঝিনুক আরও টাকা দাবি করে প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহবুবা ঘরে থাকা বটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে অন্য আসামিরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পরে লাশটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে রেখে যান আসামিরা। হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মামলা। অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুততম সময়ে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক, অপরাধ কখনো চাপা থাকে না।



