সিরাজগঞ্জ

কিশোর বয়সে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন শামছু, ফিরলেন বৃদ্ধ হয়ে!

মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১৩ বয়সের কিশোর শামছু অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার ৫০ বছরের‌ও বেশি সময় পরে বাড়িতে ফিরে এলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ হয়ে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এরকমই ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের সাহাপাড়া মহল্লায়। শামছু ওই মহল্লার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে।

গতকাল রোববার (২৫শে অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেয়ের জামাই মিন্টুকে সাথে নিয়ে খোঁজ করে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তার এভাবে ফিরে আসায় স্বজনদের মাঝে যেমন ব‌ইছে আনন্দের বন্যা, তেমনি এলাকাবাসীও অনেক আনন্দিত। শতশত মানুষ বৃদ্ধ শামছুকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছে।

জানা যায়, পৌর শহরের সাহাপাড়া মহল্লার মৃত গোলাম হোসেনের ৫ ছেলে ৪ মেয়ের মধ্যে ৩য় সন্তান শামছু, ৫০ বছরের অধিক সময় পূর্বে অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে যান তিনি। পরে তার বাবা ও ভাইয়েরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তার অনুসন্ধান করেও পায়নি। সময় পানির স্রোতের মতো পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয় পরিবার।

কয়েক দশক পূর্বেই তার বাবা মা মারা যায়, পর্যায়ক্রমে তার ৪ ভাই ও ২ বোন‌ও পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তাদের বসতবাড়িতে বর্তমানে ভাইদের সন্তানরা বসবাস করেন। তারা চেনেন না এই শামছুকে, তবে তারা বাবা ও ফুপুদের কাছে শুনেছেন যে তাদের এক চাচা ছোটবেলায় বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।

এসময় বৃদ্ধ শামছুর বোন রুবি বেগম বলেন, আমরা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি আমার ভাই বেঁচে আছেন এবং সে ফিরে আসবে। জীবনের এই শেষ সময়ে আমার ভাইকে পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত, তবে আফসোস আমার বাবা মা ও অন্যান্য ভাই বোনেরা তাকে দেখে যেতে পারলেন না।

বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বৃদ্ধ শামছু বলেন, শয়তানি করে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে গেছিলাম। সেখান থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে ঠেলাগাড়ি ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছি। সংসারে তার ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে, ছেলেরা গাড়ি চালায়। বর্তমানে চট্রগ্রামের কর্ণফুলী ব্রীজের পাশে কালনী বাজার এলাকায় বসবাস করেন।

এতো দিন কেন আসেননি প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি, এখন আসার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো মারা যাবো তাই মৃত্যুর আগে বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে ও বাবার ভিটার মাটি স্পর্শ করে জীবনের পুর্ণিতা পেতে এসেছি। বাড়ি চিনলেন কিভাবে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বড় মসজিদের পাশেই আমাদের বাড়ি ছিল, মখদুমিয়া জামে মসজিদের পাশে এসে খোঁজ করতে করতে বাড়িতে চলে এসেছি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ