খুলনা

শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান : শিশুদের মেধা, মনন, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তিনি বলেন, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাদের যোগ্য, নীতিবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের জাতীয় সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের খুলনা মহানগর শাখার ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শিশুদের সার্বিক বিকাশে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সন্তানদের মানসিক সুস্থতার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। পারিবারিক কিংবা সামাজিক কোনো পরিস্থিতি যেন তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে। তিনি শিশুদের প্রতি অবহেলা, বঞ্চনা ও প্রতিকূলতা দূর করার আহ্বান জানান।

শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোননির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেসিসি প্রশাসক বলেন, তাদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। এর পরিবর্তে সৃজনশীল, গঠনমূলক ও অর্থবহ কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মাইন্ড ম্যারাথন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় প্রধান পরিচালক ও বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের কাউন্সিলর মুজাহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ইরুফা সুলতানা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংগঠনটির উপদেষ্টা সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ আলম, উপদেষ্টা কোষাধ্যক্ষ ড. এহসানুল কবির, অন্যান্য সংগঠক, অভিভাবক এবং অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা উপস্থিত ছিলেন।

‘বিশ্বকে গড়তে হলে আগে নিজেকে গড়ো’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ফুলকুঁড়ি আসর শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।##

এই বিভাগের আরও সংবাদ