জাতীয়

পল্লবীতে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব উদ্বোধন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে তুলতে চান। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলিত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবসমাজ ও পল্লবী থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমিনুল হক।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে উঠুক। শুধু ক্লাব গঠন করলেই হবে না, সারা বছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। এ জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সার্বিক সহযোগিতা সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

তরুণদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, যুবসমাজ চাইলে সমাজের সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে। তরুণেরা খেলাধুলায় মনোযোগী হলে মাদকসহ সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে এ সামাজিক পরিবর্তনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত এসব মাঠের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া রূপনগরের একটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই জায়গায় ৩২টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া থাকায় বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্য জায়গায় প্লটের ব্যবস্থা করে দিলে তাঁরা মাঠের জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তবে মাঠটি খেলার উপযোগী করতে সেখানে কৃত্রিম ঘাস, চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ও আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, এলাকার মানুষের পানির সংকট সমাধানে কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আরও কয়েকটি স্থানে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি এলাকার সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানেও তিনি কাজ করছেন।

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায় করে, চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সে যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ আমার নাম কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন। তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপপ্রচারের পথে না গিয়ে সত্যকে ধারণ করতে হবে। একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আমিনুল হক আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ইতিমধ্যে পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাপ্রাপ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান তিনি।

অনুষ্ঠানে নগর বিএনপি নেতা গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, মাহবুব আলম মন্টু, কর্মসূচির আয়োজক পল্লবী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান সোহেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে মিরপুর সেকশন-১১-এর ব্লক-বি আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদুল হুদা কমপ্লেক্স ও ডুইপ প্লটে তিনটি গভীর নলকূপ এবং তালাব ক্যাম্পে মৃত ব্যক্তিদের গোসলের জন্য নির্মিত গোসলখানা উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ