জাতীয়

সৌদিতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠাতে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন: এম হুমায়ুন কবির

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যে মক্কা চুক্তি করেছে তা একান্তই তাদের নিজ নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে কাঠামো দরকার মক্কা চুক্তিতে তা আছে বলে মনে হয় না। এ চুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে তা অনিশ্চিত। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তিতে যাবে কি না তা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কোন ভাবাবেগ নয় বরং গভীর চিন্তার মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে মক্কা চুক্তি না করে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উপায়েও সৈন্য পাঠানো যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যসহ সৌদি আরবের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আমাদের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারত, ইসরায়েল, ইউএই মিলে আরেকটি অক্ষশক্তি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট বর্তমানে জটিল অবস্থায় উপনীত। সম্প্রতি সৌদি আরবের সাথে হুতিদের যে সংঘাত তা পরিস্থিতিকে আরো জটিলতর করেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ ও পারষ্পরিক সম্মান প্রদানের মাধ্যমেই এ সংঘাত নিরসন সম্ভব হতে পারে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মির, রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা আজ মুসলমানদের নাজুক করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসি এর মতো সংস্থাগুলো আজ অকার্যকর। ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে। যা ইসলাম বিরোধীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিম বিদ্বেষী মিডিয়াগুলো ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থী’ ধর্ম হিসেবে তুলে ধরছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ