কপ-৩১: সরকারের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জলবায়ু দাবি আদায়ের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর


আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (COP 31) সরকারের সাথে জোরালো ও ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে সুশীল সমাজ এবং এনজিও সমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।
আজ শনিবার ঢাকাস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে সিভিল সোসাইটি সংস্থা এবং অ্যাকশনএইড (ActionAid) সহ অন্যান্য এনজিও কর্তৃক COP31 উপলক্ষে প্রণীত ‘বাংলাদেশের অবস্থানপত্র’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অবস্থানপত্র তৈরিতে গবেষণামূলক তথ্য ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশের (অর্ধ শতাংশ) কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতি প্রতিদিন প্রত্যক্ষভাবে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছে দেশের নারী ও শিশুরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ভূখণ্ড হারিয়ে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে, যা অভ্যন্তরীণ অভিবাসন সংকট তৈরি করছে। এ কারণে বৈশ্বিক মঞ্চে জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে জোরালো আলোচনার ওপর তিনি জোর দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও জলবায়ু অভিযোজনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে অন্যতম:শিল্পখাতে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতি (Circular Economy) গড়ে তোলা।
উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার।২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।কার্বন বাজার গঠন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০% ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ে সহাবস্থানের ওপর জোর দেন। একইসাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জলবায়ু অর্থায়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। নির্ভরযোগ্য স্থানীয় তথ্য ও গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক স্তরে উপস্থাপনের জন্য সুশীল সমাজকে অনুরোধ করেন তিনি।
এছাড়া, বিশ্ব দরবারে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হিসেবে পাটকে তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি অবহিত করেন যে, আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের ‘সোনালী আঁশ’ পাটকে একটি পচনশীল ও শূন্য-বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে প্রদর্শন করতে একটি ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ (Jute Pavilion) স্থাপন করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পাটজাত ও শিল্পপণ্যের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।উক্ত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।



