খুলনা

খুলনায় ‘ইনক্লুসিভ ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ডিসকাশনস’ শীর্ষক সক্ষমতা উন্নয়নমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত

‎আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান : ‎তরুণদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে খুলনায় ‘ইনক্লুসিভ ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ডিসকাশনস’ শীর্ষক একটি সক্ষমতা উন্নয়নমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
১২ অক্টোবর (‎সোমবার) সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, খুলনায় আপস (APOS) যুব সংগঠনের আয়োজনে ‘সমতায় তারুণ্য: Youth for Equality’ প্রকল্পের আওতায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্লান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায়, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং আপস যুব সংগঠন বাস্তবায়ন করছে।
‎
‎আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ, ভুল তথ্য ও গুজব শনাক্তকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, অনলাইনে নিরাপদ থাকা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহারের বিষয়ে তরুণদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‎
‎আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা জেন্ডারভিত্তিক গতানুগতিক ধারণা। এতে সমাজে নারী ও পুরুষের সক্ষমতা, দায়িত্ব, পেশা, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ছকবদ্ধ ধারণা কীভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে, নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারে না, পুরুষেরা আবেগ প্রকাশ করতে পারে না কিংবা নির্দিষ্ট কিছু পেশা শুধু নারী বা পুরুষের জন্য উপযুক্ত—এ ধরনের প্রচলিত ধারণার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।
‎
‎আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় যে, একজন মানুষের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সম্ভাবনা তার জেন্ডার দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক অংশগ্রহণে সবার জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বৈষম্যহীন আচরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
‎
‎আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা, জেন্ডারসমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, তরুণদের নিজ নিজ পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে সমতা, নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ