সংবাদ প্রকাশে ক্ষোভ, সাংবাদিককে বিজ্ঞাপন না দেওয়ার ইঙ্গিত এসিল্যান্ডের


ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামজারি কার্যক্রমের সূচকে প্রথম স্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ওই সাংবাদিককে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন আবার আমার কাছে বিজ্ঞাপন চাইবেন, এটা তো হতে পারে না।’ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এমন মন্তব্যে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই মন্তব্য করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দাবি। ফলে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের বিষয়টি জুড়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ কি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান, নাকি জনস্বার্থে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব?
সাংবাদিকদের কাজ সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখা নয়; বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা। কোনো দপ্তরের সেবার মান, কাজের অগ্রগতি কিংবা কার্যক্রমের সূচকে অবনতি হলে তার কারণ জানতে চাওয়া সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব। সংবাদে তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও বক্তব্য দেওয়ার, তথ্য সংশোধনের এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করা হলে তা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রশাসনের পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
নামজারি ভূমিসেবার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এ কার্যক্রমে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার তথ্য সঠিক হলে, এর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। কেন অবস্থানের অবনতি ঘটল, আবেদন নিষ্পত্তির হার কমেছে কি না, সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন কি না এবং এ পরিস্থিতি উত্তরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জনসাধারণের জানা প্রয়োজন।
সূচকে অবনতির খবর প্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল এসব প্রশ্নের তথ্যভিত্তিক উত্তর। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে এসেছে বিজ্ঞাপন চাওয়ার প্রসঙ্গ। এতে মূল প্রশাসনিক প্রশ্নের উত্তর আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একইভাবে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা সংবাদে ক্ষুব্ধ হলে তিনি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেন কিংবা ভুল তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ ও বিজ্ঞাপন চাওয়ার বিষয়কে একসঙ্গে টেনে মন্তব্য করা হলে তা নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
সংবাদ প্রকাশের সাথে বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টানা বিষয়ে সহকারী কমিশনার সালাউদ্দিন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগের জন্য সকাল ১০টায় অফিসে গিয়ে উনাকে পাওয়া যায়নি। কল করা হলেও তিনি গ্রহণ করেন নি। পরবর্তীতে হোয়াটসআ্যপ কলের মাধ্যমে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ ধরনের বক্তব্য কোন নীতিমালায় দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘বিজ্ঞাপন যে আপনাদেরকে দিতে হবে এমন কোনো নীতিমালাও তো নেই’।



