বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ


শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের ফলপট্টি নামক এলাকায় একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে একদল লোক ঢুকে কর্মচারীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন অংশ নেয়। এ সময় প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান অভিযুক্ত করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে তাঁদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও রাফাতের বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে একদল লোক ওই প্রতিষ্ঠানে ঢোকে। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থান করতে এবং কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান ও তাঁর সন্তানদের খুঁজছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানের শাটার নামিয়ে তাঁরা চলে যান। এ সময় টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, ‘আমরা নিজেরাই এ ঘটনায় আতঙ্কিত। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনা আমরা কখনো কল্পনা করিনি।’ তিনি অভিযোগ করেন, তরিকুল ইসলাম সম্রাট যুবদলের নাম ব্যবহার করে সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া-বাণিজ্য করছেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে তরিকুল ইসলাম সম্রাট এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাঁদের পারিবারিক জায়গা রয়েছে। ওই জায়গার পেছনেই আব্দুল্লাহ আল রাফাতের প্রতিষ্ঠান। মূলত তাঁকে সেখান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



