মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কারখানায় খাদ্য উৎপাদন, নেই ট্রেড লাইসেন্স

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের চর সন্তোষপুর (চর মুক্তারপুর) এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’তে অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ও নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খোলামেলা অবস্থায় তৈরি খাদ্যপণ্য রাখা হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার মধ্যে খাদ্যপণ্য তৈরির কাঁচামাল খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিন ও যন্ত্রপাতিতেও জমে আছে ময়লার স্তূপ। কারখানার মেঝেতে খাবার পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই খাবারের ওপর মাছি বসে থাকতে দেখা যায়। খাবারের আশপাশে রয়েছে তৈলাক্ত ময়লা ও আবর্জনা।

এ সময় কারখানার শ্রমিকদের অপরিষ্কার হাতে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্যাকেজিং করতে দেখা যায়। মেঝেতে পড়ে থাকা খাদ্যপণ্যের পাশ দিয়েই শ্রমিকরা জুতা পায়ে চলাচল করছেন। ফলে উৎপাদিত খাদ্যের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হওয়ায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি কম। এ সুযোগে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট, রুটি, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যপণ্যে ইচ্ছামতো মেয়াদ উল্লেখ করার অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

কারখানার ভেতরের পরিবেশ দেখে প্রশ্ন উঠেছে—এটি আদৌ খাদ্যপণ্য উৎপাদনের স্থান, নাকি ময়লা-আবর্জনা সংরক্ষণের জায়গা। খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেখানে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথা, সেখানে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কারখানাটির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে বিসমিল্লাহ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আফাজ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেদককে বলেন, “আপনি কে? কেউ কোনো দিন জিজ্ঞেস করতে আসলো না। আপনাকে কেন বলবো? আমাদের সব ঠিক আছে।” এ সময় তিনি প্রতিবেদককে তার কারখানার ছবি তুলতে বলেন এবং প্রতিবেদকের ছবিও তুলে রাখেন।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, “আপনার কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। আমরা খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয়দের দাবি, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে দেখা এবং সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ