মুন্সিগঞ্জ

শ্রীনগরে ব্যাংক কর্মকর্তার অর্থ লোপাটের শতাধিক অভিযোগ জমা

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগের পলাতকের পর অর্থ লোপাটের শতাধিক গ্রাহকের অভিযোগ জমা পরেছে। বরিবার সকাল থেকেই শ্রীনগর প্লাজার ২য় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির মূল ফটক থেকে ব্যাংকের বাইরে শতশত গ্রাহক তাদের একাউন্ড যাচাই করার জন্য ভীর করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তারা শ্রীনগর প্লাজার গেটের গ্লাসে ভাংচুর শুরু করে। পরে পুলিশ পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে একাউন্ট যাচাই করে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা লোপাট দেখে বেশ কয়েকজন গ্রাহক জ্ঞান হারান। একের পর এক একাউন্ট খালি দেখে গ্রাহকদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, রবিবার বিকাল পর্যন্ত তথ্যানুসারে শতাধিক একাউন্ট থেকে প্রায় দশ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য মিলেছে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের অভিযোগ দিয়েছেন। অনেকেই অপেক্ষা করছেন অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার আমানত লোপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পরলে ব্যাংকটির শত শত গ্রাহক ভীর করতে থাকে। এর দুদিন আগে থেকেই ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ পলাতক ছিলেন। ওইদিন দেখা যায় ১৪টি একাউন্ট থেকে প্রায় পৌণে দুই কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এতে ব্যাংকটির প্রাবাসী ও নারী গ্রাহক সহ প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পরে।

আগ্রণী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান,এই ঘটনায় ব্যাংকটির পলাতক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মোঃ জিন্নাহকে শোকজ করা হয়েছে। শরীফুজ্জামান সোহাগের ব্যাক্তিগত সিলে গ্রহন করা টাকা গ্রাহকরা ফেতর পাবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের অডিট টিম কাজ করছে।

এর বাইরে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি যাচাই বাছাই করে গ্রাহকের অর্থ ফেতর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। কতজনের বা কি পরিমান টাকা লোপাট হয়েছে তা সব একাউন্ট যাচাইয়ের আগে বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ গ্রহন আজই শেষ নয়, যখনই কোন গ্রাহকের এাকউন্টে অসঙ্গতি ধরা পরবে তিনি তখনই অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ