ধর্ষণের অভিযোগ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ


নেত্রকোনার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (২ আগস্ট) রাতে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিপন মিয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বেশ কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে একই গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, রিপন ওই কিশোরীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় ওই কিশোরীকে কৌশলে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করারও অভিযোগ ওঠে রিপনের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মীমাংসার জন্য দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সালিশ বৈঠকে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, দৌলত মিয়া উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত রিপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পাঁচ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া সবার সামনে বলছেন, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্বান্ত মেনে নেব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত রিপন মিয়ার বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি। রোববার রাতের পর তিনি গাঢাকা দিয়েছেন। তার মোবাইলফোনও বন্ধ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



