কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে মিললো বিরল ‘সামুদ্রিক শোল’ , ১৪ হাজারে বিক্রি


কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি বিরল আকৃতির সামুদ্রিক শোল মাছ। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘মথু’ বা ‘দাঁতিনা সুরমা’ নামে পরিচিত। বিশাল আকৃতির এই মাছটি দেখতে আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাছটি বিক্রির জন্য আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মেসার্স ফাইভ স্টার ফিস আড়তে আনা হয়। পরে ৭০০ টাকা কেজি দরে মোট ১৪ হাজার টাকায় মাছটি যৌথভাবে কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান খান ও মো. সোহাগ আহমেদ।
ট্রলারের মাঝি রুহুল আমিন জানান, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তারা প্রায় নয় দিন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। অন্যান্য মাছের সঙ্গে হঠাৎ করেই জালে উঠে আসে বিশাল আকৃতির এই সামুদ্রিক শোল। দীর্ঘ সময় সাগরে কঠোর পরিশ্রমের পর এমন একটি মূল্যবান মাছ ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে তিনি ও তার সহকর্মীরা আনন্দিত।
ক্রেতা আব্দুর রহমান খান ও মো. সোহাগ আহমেদ বলেন, এত বড় আকৃতির সামুদ্রিক শোল সচরাচর বাজারে পাওয়া যায় না। তাই বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য নয়, বরং নিজেরা খাওয়ার উদ্দেশ্যেই মাছটি কিনে সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “সামুদ্রিক শোল মূলত গভীর সমুদ্রের একটি বিরল প্রজাতির মাছ। সাগরের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং পর্যাপ্ত খাদ্য পেলে এ ধরনের মাছ আকারে অনেক বড় হতে পারে। নিয়মিত এমন বড় মাছ ধরা পড়লে উপকূলীয় জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, যা সামগ্রিক মৎস্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্রে বিরল ও বড় আকৃতির মাছ ধরা পড়া একদিকে যেমন সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে, অন্যদিকে জেলেদের জন্যও এটি বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে।



