নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন ব্যাহত হয় -ছারছীনা পীর ছাহেব


আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন- নিয়ত বা অন্তরের সংকল্পের ওপরই ইবাদতের আসল মূল্য ও কবুলিয়ত নির্ভর করে। নিয়ত যদি খাঁটি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না হয়, তবে তা ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা ও রুহানি উপকারিতা প্রদান করতে পারে না।
২১ অক্টোবর, বুধবার নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন মিরকুন্ডী দারুসসুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া কমপ্লেক্স ও ডাঃ ইয়াসির হাসান শেখ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ছারছীনা দরবার শরীফের আলা হযরত পীর সাহেব কেবলার শুভাগমণ উপলক্ষে মিরকুন্ডী কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে অত্র গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ইছালে ছওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেকোনো নেক আমলের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ইবাদতে যদি লোকদেখানো মনোভাব (রিয়া), দুনিয়াবী নাম-ডাকের ইচ্ছা কিংবা অহংকার প্রবেশ করে, তবে বাহ্যিক কষ্ট স্বীকার সত্ত্বেও সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। ফলে মানুষ ইবাদতের আসল শিক্ষা অর্থাৎ তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠন থেকে বঞ্চিত হয়।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ আমলের বাহ্যিক রুপের প্রতি যতটা মনোযোগী, অন্তরের বিশুদ্ধতার প্রতি ততটা যত্নবান নয়। হাসাদ (হিংসা), ক্বিবর (অহংকার) ও রিয়া থেকে অন্তরকে মুক্ত না রাখলে ইবাদত কেবল প্রথাগত অনুশীলনে পরিণত হয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে না। তাই যেকোনো ভালো কাজ শুরুর পূর্বেই নিয়তকে খাঁটি করে নিতে হবে।”
বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলমান মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্চুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মোঃ মামুনুল হক, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোঃ মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমূখ।
মাহফিল শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি-কল্যাণ কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা আভেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।



