হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী


সিনিয়র রিপোর্টার: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে কোরআন অনুরাগের প্রসার ঘটাবে এবং ইসলামি মূল্যবোধ চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস নয়, এটি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হাফেজদের মেধা ও দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সৌদি রাজকীয় দূতাবাসের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের হাফেজদের বিশ্বে দরবারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলরুমে সৌদি রাজকীয় দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
রাজকীয় সৌদি দূতাবাস ঢাকা বাংলাদেশ এর দাঈদ শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানীর সভাপতিত্বে ও সাইফুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ’র যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৌদি দূতাবাসের দায়ী শায়েখ বদর বিন ইসহাক আল মাদানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো: আজিজুল করিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিয়াউল হক নাসেহ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার মাদরাসা থেকে আগত ৬০জন কৃতী হাফেজগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগীরা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও নিখুঁত মুখস্থ শৈলী প্রদর্শন করেন। অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত ক্বারী এবং আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী প্রতিযোগীদের তিলাওয়াত মূল্যায়ন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ বিজয়ী হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। উত্তীর্ণ হাফেজগণ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন। উক্ত বাছাই পর্বের অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি



