জাতীয়

‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিততে চাই’: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়ী হতে চান তাঁরা। এ জন্য নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে থেকে তাঁদের মতামত নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য এ দেশের সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ন করা। জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ করেই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাই।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা-১৬ আসন বিএনপির আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালির আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আমিনুল হক বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারী বা অন্যায়কারীকে বিএনপি প্রশ্রয় দেবে না। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘জনগণের পাশে থাকবেন, জনগণের মতামত নিয়ে প্রত্যেকটি কাজ করবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের প্রত্যেকটি কার্যক্রম পরিচালনা করব।’

নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, যেসব এলাকায় পানির পাম্প প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত পানির পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নকাজও শুরু হয়েছে।

মিরপুরে হাসপাতাল নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বৃহত্তর মিরপুরে একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুব শিগগির পল্লবীসহ বৃহত্তর মিরপুরে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘আপনাদের এখানে কর্মসংস্থান হবে, আপনাদের কাজের প্রয়োজন—সেটাও পূরণ হবে, ইনশা আল্লাহ। সেটাই আমি করে দেব।’

বিএনপির সরকার গঠনের ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যসহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন আমিনুল হক। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন।

সমাবেশ শেষে মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি শুরু হয়। র‍্যালিটি মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুরের মূল ১০ নম্বর হয়ে মিরপুর-৬ নম্বর বাজারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজাউল হোসেন রিয়াজ ও মাহবুব আলম মন্টু, পল্লবী থানা বিএনপির আনিসুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ আলী গাজী, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক লাভলু,রূপনগর থানা বিএনপির আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুল হক, জাহাঙ্গীর কবির জন, মহিলা দলনেত্রী লাইলী বেগম, যুবদল পল্লবী থানার আহবায়ক নূর সালাম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন বাপ্পী,ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান রনি, স্বেচ্ছাসেবক দল পল্লবী থানার আহবায়ক মেহেদী হাসান বাবু, সদস্যসচিব রবিউল করিম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল রূপনগর থানার আহবায়ক রওশন, ছাত্রদল পল্লবী থানার আহবায়ক সৈয়দ হাসান সোহেল,সদস্য সচিব খোরশেদ ইসলাম নীরবসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ