পঞ্চগড়

বোদায় বিচারাধীন জমি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মাহমুদ দোলন, পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতাঃ পঞ্চগড়ের বোদা পৌর শহরের ঝিনুকনগর এলাকায় আদালতের বিচারাধীন জমি নিয়ে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে ঝিনুকনগর এলাকার ভুক্তভোগী ১০টি পরিবারের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

​ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মনজুরুল হক। এ সময় লিখিত বক্তব্যে ও উপস্থিত ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, ১৯৬১ সালে ২৪৯ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘ প্রায় ৬৬ বছর ধরে পরিবারসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন প্রয়াত আবু নুর মোহাম্মদ আব্দুল গফুরের পরিবারবর্গ। তাদের বাড়ির পাশেই বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থিত। কিন্তু ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের একটি নোটিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসএ রেকর্ডের নকশায় কোনো কাগজপত্র ছাড়াই তাদের ক্রয়কৃত জমির একটি অংশ বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে।

​ এই জালিয়াতির প্রতিকারে তারা আদালতে নকশা সংশোধনের মামলা দায়ের করেন এবং মামলা চলাকালীন ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান। আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ বা ইনজাংকশন না দিলেও, প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুবেল নিষেধাজ্ঞার ভুয়া তথ্য দিয়ে পুলিশ দিয়ে তাদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এছাড়া গত ৩ নভেম্বর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করানো হয় এবং সেখানে মনগড়া ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হয় বলে তারা দাবি করেন।

​ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনজুরুল ইসলাম বলেন, জমি কেনার পর থেকেই বিদ্যালয় তাদের পজিশনে আর আমরা আমাদের নিজস্ব পজিশনে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছি। ২০২৫ সালে হঠাৎ জানতে পারি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসএ রেকর্ডের নকশায় আমাদের জমি বিদ্যালয়ের অনুকূলে দেখানো হয়েছে। জেনেই আমরা তা সংশোধনের আইনি পদক্ষেপে যাই। ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক অ্যাডভোকেট কমিশন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণ বিচারাধীন।

​তিনি আরও বলেন, আইন ও আদালতের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে বোদা পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। আদালত ইনজাংকশনের কোনো আদেশ না দিলেও তিনি ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশ দ্বারা আমাদের হয়রানি করাচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধ ও হয়রানি থেকে মুক্তি এবং ন্যায়বিচার কামনা করছি। সেইসঙ্গে সবাইকে আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে ১০টি পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদ দোলন

এই বিভাগের আরও সংবাদ