শ্রীনগরে স্বর্ণা ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


আরিফুল ইসলাম শ্যামল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্বর্ণা ধানের কাঙ্খিত ফলনে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুঁটেছে। আমন মৌসুমের বিকল্প স্বর্ণা জাতের ধান চাষ করছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ খুব হওয়ায় ও কাঙ্খিত ফলন পাওয়ায় স্বর্ণা ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয়দের।
দেখা গেছে, উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের বীরতারা, সাতগাঁও, তিনগাঁও, ষোলঘর, আটপাড়া, কল্লিগাঁও, বেলতলী, সিংপাড়া এলাকার চকে বিভিন্ন জমিতে পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষক-শ্রমিকরা স্বর্ণা ধান কেটে আনছেন। ফসলের আশানুরূপ ফলনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলেন, ৩ ফসলি জমিতে বছরের শ্রাবণ মাসে ধানের চারা রোপণ করা হয়। একই জমিতে স্বর্ণা ধান চাষের পর বছরের শুরুতে আলু ও পরে ভুট্রাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করেন তারা। এ ধান চাষে তেমন কোন খরচও হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে স্বর্ণা ধান চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।
উপজেলার ষোলঘরের পূর্ব-দেউলভোগ গ্রামের মো. মোরসালিন বলেন, তিনি ৫ গন্ডা (৩৫ শতাংশ) জমিতে স্বর্ণা ধান চাষ করেছেন। তিনি ধানের ফলনে আনন্দ প্রকাশ করেন। একই এলাকার মো. মিন্টু বলেন, স্বর্ণা ধান চাষে বাড়তি সুবিধা আছে, জলমগ্ন জমিতে ধানের চরা রোপণের পর নিড়ি ও ক্ষেতের যতœ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। প্রতি গন্ডায় ৪ থেকে ৫ মণ ধান উৎপাদন হয়। আমন মৌসুমে স্বর্ণা নামক এই ধান চাষে খরচ নেই বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু এই অঞ্চলের অর্থকরী ফসল। এক সময় আলু উত্তোলনের পর অধিকাংশ জমিতে ব্যাপক আমন ধানের চাষাবাদ হলেও এখন কালের পরিবর্তনে বর্ষার মৌসুমে জলমগ্ন জমিতে বিকল্প হিসেবে স্বর্ণা ধানের আবাদ করা হচ্ছে। শ্রীনগর উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষে লক্ষমাত্রা ধরা হয়। আলু উত্তোলনের পর আখ ও ভুট্রাসহ অন্যান্য ফসল শেষে শ্রাবণ মাসে স্বর্ণা ধানের আবাদ হয়। কার্তিক মাসে পাকা ধান কাটা শুরু হয়।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, স্বর্ণা ধান উৎপাদণ খরচ কম ও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।



