ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোটারই ‘ট্রাম্পকার্ড’

ঠাকুরগাঁও প্রাতনিধি: নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রস্তুত কেন্দ্রগুলোও। এখন শুধু অপেক্ষা ব্যালট বাক্সে রায় পাওয়ার। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই উপনির্বাচনে শেষ মুহূর্তের অঙ্কে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোট এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোট ব্যাংক।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিতে পারে জয়ের ব্যবধান ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তায় বুধবার (২৮ অক্টোবর ) সকালেই ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে জেলা নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ইভিএম অথবা ব্যালটের মাধ্যমে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে গত ২৭ তারিখেই।

এই উপ-নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে থেকেছে ৫ জন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীক নিয়ে চালিয়েছেন নিজ নিজ প্রচারণা ।

অপরদিকে রাজনৈতিক মাঠের পটপরিবর্তনে আওয়ামীলীগ এর মত বড় দলটি সরাসরি নির্বাচনে দৃশ্যমান না থাকলেও তাদের একটি বিশাল ও সুসংগঠিত সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এই অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে অবস্থান নেন কিংবা ভোটদানে বিরত থাকেন কি না, তার ওপর নির্ভর করছে মূল দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভাগ্য।

এ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনের ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটারের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র প্র¯স্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক আকাশে ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোটের হিসাব-নিকাশেই জমাট বাঁধছে রাজনৈতিক সমীকরনের। বিএনপি কি তাদের আগের মতো শতভাগ ভোট ধরে রাখতে পারবে, নাকি জামায়াতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সেখানে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে সেটির উত্তর মিলবে ভোটের মাধ্যমেই।

তবে সব বিতর্ক ও সমীকরণ পেরিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই নিজেদের রায় প্রয়োগ করতে পারেন এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

এই বিভাগের আরও সংবাদ