দক্ষিণখানে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ


শহিদুল ইসলাম সাগর : রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পূর্ব আজমপুর এলাকায় অবস্থিত দীর্ঘ দিনের পুরানো বাইতুল মামুর জামে মসজিদের নিয়ম-নীতির পক্ষে কথা বলায় কথিত মুতওয়াল্লি কর্তৃক মুয়াজ্জিন সোলাইমানকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । মুতওল্লী (তার) কথা না শুনলে মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। খবর এলাকাবাসী, আহবায়ক কমিটি, ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন তথ্য সূত্রের।
এলাকাবাসী ও আহ্বায়ক কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৪/১০/২৬ তারিখ বাদ এশা উক্ত মসজিদের কথিত মুতওয়াল্লী দাবি করা মোঃ ফিরোজ মিয়া একই মসজিদের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালন করা মুয়াজ্জিন মোঃ সোলাইমান (হুজুর)কে মসজিদের (দ্বিতীয় ও তৃতীয়) তলার রুম ভাড়ার খাতা সহ হিসাব তার বাসায় দিয়ে আসতে বলেন। তার কথা না শুনে মুয়াজ্জিন উক্ত খাতা আহ্বায়ক কমিটির ক্যাশিয়ার এর নিকট জমা দেয়। এটাই নিয়ম এই কথা বলায় মোঃ ফিরোজ মিয়া হঠাৎ ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে তাকে ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন।
সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখান থানার পূর্ব আজমপুর জামতলা এলাকার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একাংশে ভাংচুরের চেষ্টা চালালে এ ঘটনাটি ঘটে।
বায়তুল মামুর জামে মসজিদের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব শেখ মাসুম হায়দার এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে স্থানীয় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের দেয়াল ভেঙে মসজিদের একাংশ দখলের চেষ্টা চালায় ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে কতিপয় কিছু দুর্বৃত্ত।
অভিযোগে জানা যায়, গত, ১৯/০৯/২৬ ইং তারিখে মধ্য রাতে দক্ষিণখান থানার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের জমি জবর দখলের উদ্দেশ্যে মোঃ ফিরোজ মিয়া একই মসজিদের দ্বিতীয় তলার একাংশে বহিরাগত লোকজন নিয়ে দেয়াল ভাঙ্গার কাজ করেন। পরবর্তীতে এবিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পেরে তৎকালীন সময়ে মসজিদের আহবায়ক কমিটি ও এলাকাবাসী বাঁধা প্রদান করলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ব্যক্তিগত মাদ্রাসা বানানোর নাম করে মো: ফিরোজ মিয়া নানা রকম কৌশল অবলম্বন শুরু করেন এবং উক্ত মসজিদের একাংশ দখল করার চেষ্টাসহ পায়তারা চালায়। এই কাজে তাহার বিপক্ষে যাহারা বাঁধা দিবে, তাদেরকে সে দেখে নেবে বলে হুমকি প্রদান করেন। অথচ মসজিদের পুরো বিল্ডিংটি নির্মিত হয়েছে এলাকার মুসল্লী ও জনগণের অর্থায়নে। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৮/০৯/২৬ ইঃ তারিখে উক্ত মসজিদের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মো: সালাউদ্দিন খান লিটন ও তার কমিটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিনখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার ডায়েরি (জিডি) নং ১৮২৪।
বর্তমান বায়তুল মামুর জামে মসজিদের আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করে জানান, উক্ত মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসী মো: ফিরোজ মিয়া কর্তৃক এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এখই সাথে তারা কোন ব্যক্তিকে মসজিদের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ করতে দিবেন না মর্মে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সচেতন মহলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মোঃ সালাউদ্দিন খান লিটন আহবায়ক ও শেখ মাসুম হায়দার সদস্য সচিব হিসেবে বর্তমান মসজিদ কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ মমতাজ উদ্দিন, মোঃ আবুল কাশেম, মোঃ বাবুল, মোঃ ওসমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা একত্রিত হয়ে উক্ত মসজিদের খেদমতে সচেষ্ট রয়েছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ ।
এব্যাপারে অভিযুক্ত (ব্যক্তি) মো: ফয়েজ মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। সে কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ডিজি, ডিএমপি কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।



