ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জালে এক হালি দিলো ব্রাজিল


২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন দল তৈরি মিশনে নেমেছে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। প্রথমটিতে অজিদের বিপক্ষে ড্র করে চাপে পড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে সেলেসাওরা। ফলে সম্মান নিয়েই অস্ট্রেলিয়া ছাড়ছে পাচঁবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাকি দুটি গোল করেছেন ভ্যান্ডারসন ও গিমারায়েস।
এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে ভ্যান্ডারসন দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল অস্ট্রেলিয়ার জালে পাঠান। শুরুতেই গোল হজম করলেও এতে ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া।
২৮ মিনিটে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। মেটকাফের নেওয়া কর্নার কিক ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দূরের পোস্টে থাকা আলেসান্দ্রো সিরকাটির কাছে পৌঁছায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার এই ডিফেন্ডার।
গোলটি অফসাইড কি না, তা যাচাই করতে ভিএআর দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। ৪৫তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকার সময় দানিলোর সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন হ্যারি সাউটার।
এতে দানিলোর পায়ে আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও ভিএআরের পরামর্শে পরে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন ব্রাজিল অধিনায়ক রাফিনিয়া। নিচু ও জোরালো শটে তিনি বল পাঠিয়ে দেন গোলের নিচের কোণায়। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ সঠিক দিক অনুমান করে ঝাঁপ দিলেও শটের গতি ও নিখুঁততায় বল ঠেকাতে পারেননি।
রাফিনিয়ার ওই গোলেই প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবার সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ফলে বিরতিতে ২-২ সমতায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দুই দলই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ৬৯ মিনিটে দলকে লিড এনে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। এন্ড্রিকের বাড়ানোর বল থেকে দারুণভাবে গোল তুলে নেন তিনি।
এরপর ৮০ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আর স্পট কিকে দলকে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দীর্ঘদিন পর গোলের দেখা পেলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলের কিছুদিন ধরেই খারাপ সময়ের মধ্য যাচ্ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না পাওয়ায় ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। এতে অজিদের বিপক্ষে এক ড্র ও জয় নিয়ে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরছেন ভিনি-রাফিনিয়ারা।



