ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্স দিতে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ ট্রাম্পের


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ইউক্রেনেই উন্নতমানের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন চরম ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে ভুগছে। রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় আজ শুক্রবার দেশটির রাজধানীতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণ হারিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তার সর্বশেষ সফরকালে জেলেনস্কি আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার জন্য নতুন করে আবেদন জানান। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর আস্থা রাখছে ইউক্রেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের শেষ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাচ্ছে।’
গত জুলাই মাসে ট্রাম্প ইউক্রেনকে এই লাইসেন্স দেওয়াকে ‘বেশ দারুণ ব্যাপার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে অবস্থান বদলে বলেন যে, ইউক্রেনকে এমন অনুমোদন দেওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ হওয়া উচিত।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই উন্নত ব্যবস্থার সরবরাহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের তীব্র ঘাটতির কথা শোনা গেছে।
তবে এই লাইসেন্স দেওয়া হলেও, প্রয়োজনীয় শিল্প সক্ষমতা তৈরি করতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে এবং এটি কিয়েভের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে পারবে না।
‘বর্বরোচিত ও ঘৃণ্য হামলা’
মস্কো নতুন তৈরি জেট ইঞ্জিন চালিত ড্রোনের মাধ্যমেও ইউক্রেনের রাজধানী লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোন ইউক্রেনের তৈরি কিছু ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে। আগে প্রধানত রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো হলেও, মস্কো এখন দিনের আলোতেই প্রায়শই হামলা চালাচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকালে যখন সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তখন একটি ড্রোন কিয়েভ শহরের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যাতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সামরিক যুক্তিবিহীন বর্বরোচিত ও ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এএফপি-র সাংবাদিকরা দেখেন, বহুতল ভবনের চারপাশে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে আছেন। ভবনটির নবম ও দশম তলার অ্যাপার্টমেন্টগুলো হামলার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
হামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ২৩ বছর বয়সী আইটি বিশেষজ্ঞ মাইকিতা সিসোয়েভ জানান, একটি বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল, তবে তিনি যখন খবর দেখেন তখনই কেবল বুঝতে পারেন যে, হামলাটি তাদের ভবনেই হয়েছে।
সিসোয়েভ বলেন, ‘আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। বিষয়টি অদ্ভুত- একদিকে যেমন আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, আবার অন্যদিকে মানুষ প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে।’
ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিসোয়েভ আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত যুদ্ধ… দুর্ভাগ্যবশত, আমরা যখন সমাধানের পথ খুঁজছি, তখন মানুষকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।’
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে একটি ডাক পরিষেবা কেন্দ্রে রাশিয়ার চালানো অন্য একটি হামলায় আরেকজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



