বিনোদন

মা হওয়ার পর শুধু জীবন নয়, বদলে যায় একজন নারীর শরীরও: নাদিয়া

গত বছরের নভেম্বরে মা হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। এরপর থেকেই অনেকটা আড়ালে ছিলেন তিনি। অভিনয় থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি অবশ্য স্বামী ও অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানিদের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসেন ক্যাটরিনা। সেখানে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজও দেন তিনি। প্রিয় তারকাকে এভাবে দেখে উচ্ছ্বসিত হন ভক্তরা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরাবরই ছিপছিপে গড়নের ক্যাটরিনার শরীরে মাতৃত্বের পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এটি সন্তান জন্মের পর একজন নারীর স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন হলেও বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি অনেক নেটিজেন। বরং তার চেহারা ও ওজন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ধরনের কটূক্তি।

ক্যাটরিনাকে ঘিরে এমন নেতিবাচক মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। নিজেও মা হওয়ায় মাতৃত্বের পর একজন নারীর জীবন ও শরীরে আসা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তাই ক্যাটরিনার একটি ছবির সঙ্গে নিজের ছবি কোলাজ করে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন নাদিয়া।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘একজন নারী যখন মা হন, তখন শুধু তার জীবনটাই বদলে যায় না, বদলে যায় তার শরীরও। গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘুমহীন রাত, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন—সবকিছুর ছাপ কোথাও না কোথাও থেকে যায়। একটি নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পাওয়া সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক অপার আশীর্বাদ।’

মাতৃত্বের এই পরিবর্তনকে সম্মানের চোখে দেখার আহ্বান জানিয়ে নাদিয়া আরও বলেন, ‘একজন নারীর শরীরের মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখে, এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে! এই সৌভাগ্য সবার জীবনে আসে না। আর যাদের জীবনে আসে, তারাও কখনো কখনো এই আশীর্বাদের মূল্যটা ভুলে গিয়ে মায়ের বদলে যাওয়া শরীরটাকেই দেখতে শুরু করে।’

সামাজিক মাধ্যমে মায়েদের শরীর নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে নাদিয়া লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন মায়ের এই পরিবর্তনগুলোকে আমরা অনেক সময় ভালোবাসা আর সম্মানের চোখে দেখার বদলে বিচারের চোখে দেখি। ‘আগের মতো নেই কেন?’, ‘ওজন এত বেড়ে গেল কেন?’, ‘আগের ফিগারটা কোথায়?’, ‘নিজেকে একটু মেইনটেইন করা উচিত’—এই কথাগুলো বলার সময় হয়ত খুব সাধারণ মনে হয়। কিন্তু একজন মায়ের জন্য এগুলো কখনো কখনো নিজের শরীর, নিজের আত্মবিশ্বাস এবং নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।’

মাতৃত্বের পর শরীর বদলে যাওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে নাদিয়া বলেন, যে শরীর একটি জীবনকে পৃথিবীতে এনেছে, রাতের পর রাত জেগেছে, ক্লান্ত হয়েছে এবং পরদিন আবারও উঠে দাঁড়িয়েছে—সেই শরীরে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক।

তিনি লেখেন, ‘একজন মায়ের শরীরকে আগের মতো করার চাপ না দিয়ে, ‘তুমি কেমন আছো?’—এই প্রশ্নটা করি। মায়েদের শরীর কোনো আগে-পরের ছবি নয়, কোনো পাবলিক প্রপার্টি নয়। আর একজন নারীর মূল্য তার ওজন, কোমরের মাপ বা চেহারার পরিবর্তনে কখনোই নির্ধারিত হয় না।’

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদিয়া আরও বলেন, ‘আমি একজন মা। আমিও জানি, মা হওয়ার পর নিজের জন্য সময় বের করা কতটা কঠিন। কখনো নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ আসে, কখনো আসে না। কখনো নিজের শরীরকে ভালো লাগে, কখনো নতুন শরীরটাকে চিনতেই একটু সময় লাগে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—মায়েদের একে অপরকে বিচার নয়, বরং একটু বেশি বোঝাপড়া, একটু বেশি ভালোবাসা আর একটু বেশি সাপোর্ট দেওয়া দরকার।’

মা হওয়ার পর কোনো নারীর সৌন্দর্য কমে যায় না—এমন বার্তাও দিয়েছেন নাদিয়া। তার ভাষায়, ‘কারও শরীর নিয়ে মন্তব্য করার আগে একবার ভাবুন, আপনার একটা কথা হয়ত তার কাছে শুধু একটা কথা নয়। চলুন, মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার সংস্কৃতি বদলাই। তাদের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, তাদের শক্তিটাকে উদযাপন করি। কারণ মা হওয়ার পর একজন নারী কম সুন্দর হয়ে যান না; তিনি শুধু জীবনের একটা অসাধারণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে বদলে যান।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুনে অভিনেতা সালমান আরাফাতের সঙ্গে বিয়ে হয় সালহা খানম নাদিয়ার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের ঘরে আসে কন্যাসন্তান। মা হওয়ার পর এখন মেয়ে ও সংসার নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে নাদিয়ার। এর পাশাপাশি ছোট পরিসরে কিছু কাজও করছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ