আন্তর্জাতিক

উৎপাদন বৃদ্ধি ও ডলার-নির্ভরতা কমানোর বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি হলো দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলুর।

ইরানে ‘সরকার সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় সরকারকে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্য ও সেবা খাতের ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়ার আহ্বান জানান খামেনি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তা দরকারী ও প্রয়োজনীয় খাতে পরিচালিত করা, উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ নীতিকে স্থান দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

খামেনি জোর দিয়ে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও বিশেষায়িত পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে দেশীয় উৎপাদন অপর্যাপ্ত হলে সেক্ষেত্রে ‘বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে’ পণ্য আমদানি করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমদানিকৃত পণ্য ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা গেলে ইরানের অর্থনীতির ‘কালো দাগগুলো’ পর্যায়ক্রমে বিলুপ্ত করা সম্ভব হবে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মুক্ত বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক পতন হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময়ে এখন ২০ লাখ রিয়াল মিলছে।

খামেনি দেশের তরুণ বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময়োপযোগী উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, আরও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইরানকে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

এ ছাড়া তীব্র নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সত্ত্বেও যুদ্ধকালীন সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ মেরামত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখায় সরকারের গৃহীত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ