আন্তর্জাতিক

সুদানে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ২৭

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সাউথ কর্দোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির একটি চিকিৎসক সংগঠন। নিহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্দান (এসপিএলএম-এন) এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, সাউথ কর্দোফানের কুরদুদ ও আবু হামামা এলাকায় বসবাসকারী ওতোরো সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর এসব হামলা চালানো হয়।

সংগঠনটি জানায়, হামলার পর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আবু হিতান ও কাদুগলি এলাকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

চলতি বছরের শুরুতে এসপিএলএম-এন-সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও ওতোরো সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পর নতুন করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। সাউথ কর্দোফানের নুবা পর্বতমালা এলাকায় ওতোরো একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

জাতিগত এই সংঘাত সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধে এসপিএলএম-এনের নেতৃত্বের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সুদানের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন হিসাব থেকে জানা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বর্তমানে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

এই বিভাগের আরও সংবাদ