শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে হবে: কুবি উপাচার্য


কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা ও শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষাদান ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য ও কর্মমুখী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষকদের অন্যতম দায়িত্ব।”
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল রুমে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণা’ শীর্ষক সেমিনারে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, “ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।”
উক্ত সেমিনারে আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষা শুধু পাঠদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য। গবেষণার ক্ষেত্রে প্রকাশনার পাশাপাশি এর সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। ‘কাইজেন এপ্রোচ’-এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার ধারাবাহিক মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য মানসম্মত গবেষণা প্রয়োজন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে মাস্টার্স পর্যায়ের গবেষণারত শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র, থিসিস ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষকদের অতিরিক্ত কোর্স লোড কমিয়ে গবেষণা ও মানসম্মত পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানোন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”



