কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২


কলম্বিয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটিতে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এবং ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশে এবং গভীরতা প্রায় ১০৩ কিলোমিটার। পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কয়েকশ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে।
কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পেরেইরা শহর ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।
শহরের প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেরেইরা মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত, ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ১৫টি ভবনে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
শহরের কিছু এলাকায় আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে।
মানিজালেসে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বাসিন্দারা ভবনের দেয়ালে ফাটল, ইট খসে পড়া এবং ব্যাপক আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।
চোকো ও ভালে দেল কাউকা ছাড়াও কুইবদো ও মেডেলিনে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার কয়েকটি বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কলম্বিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজ জানিয়েছে, ভূমিকম্প ও পরবর্তী কম্পনে ৪৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রাজধানী বোগোটাতেও গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যাপকভাবে কেঁপে ওঠে। কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।
শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাজেট পুনর্বণ্টনের সুযোগও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এক হাজার ৫০০-এর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কলম্বিয়াকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ৭ মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন।



