ইনফান্তিনোকে সরানো হলে ‘বড় ভুল হবে’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইনফান্তিনোর ওপর এখন অনেক চাপ। এর মধ্যেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাকে সরানো হলে সেটা হবে ‘এক বড় ভুল’।
ইনফান্তিনো এখন তার নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছে, ইনফান্তিনো ‘বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছেন। কারণ তিনি ভবিষ্যতের বিশ্বকাপের মুনাফার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে ট্রাম্প সদ্য শেষ হওয়া বর্ধিত ২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার পক্ষে কথা বলেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি কোনো কারণে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথাও ভাবে, তাহলে সেটা হবে এক বড় ভুল। তিনি দুর্দান্ত একজন মানুষ। তিনিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন, যা আগের চেয়ে চার গুণ বেশি সফল। তিনি চলে গেলে, বিশ্বকাপ আর কখনো এত সফল বা লাভজনক হবে না। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
আগামী মার্চে ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প এই জোরালো সমর্থন জানালেন। এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবং সদস্য সংস্থাগুলোর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
এই বিতর্কের শুরু হয় ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ ঘোষণার পর। এর মাধ্যমে ফিফার প্রতিযোগিতায়, বিশেষ করে বিশ্বকাপে, বেসরকারি অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা হয়। এই প্রস্তাবে বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা ও কনফেডারেশন তীব্র আপত্তি জানায়।
চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়। ইনফান্তিনো এবং ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম এই প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষমা চান। তারা স্বীকার করেন, ভুল হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দেন, এই ভুল আর হবে না।
ফিফা আরও জানায়, তারা পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এই পর্যালোচনার ফলাফল পরবর্তী ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে জমা দেওয়া হবে।
তবে পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পরও বিতর্ক থামেনি। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এএফসি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা চালিয়ে যায়। তারা বলে, এই বিষয়টি শুধু যোগাযোগ বা প্রক্রিয়াগত ভুলের নয়।
সোমবার ‘ফুটবল পরিবার’-এর উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে তিন কনফেডারেশন বলে, এই বিরোধ অর্থ, বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ কিংবা প্রতিযোগিতার বণ্টন নিয়ে নয়। এটি ফুটবলের শাসন কাঠামোর সততা নিয়ে।
তারা লেখে, ‘এটা অর্থের বিষয় নয়।’ তারা বলে, ফিফার সঞ্চিত অর্থ বরং সদস্য সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ মজবুত করতে যথাযথভাবে বণ্টন করা উচিত। তারা অভিযোগ করে, ফিফা পুরো ঘটনাকে যোগাযোগ সমস্যা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কিন্তু তাদের মতে, এটি নেতৃত্বের গভীর সমস্যা।
কনফেডারেশনগুলো বলে, ‘ফিফার সাম্প্রতিক চিঠিতে সহ-সভাপতি এবং ২১১টি সদস্য সংস্থার কাছে স্বীকার করা হয়েছে যে প্রক্রিয়ায় ভুল হয়েছে। কিন্তু ফিফা একে যোগাযোগের ব্যর্থতা হিসেবে দেখাচ্ছে। অথচ ফুটবল বিশ্ব যা দেখেছে, তা ছিল বিচারবুদ্ধির ব্যর্থতা।’
বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির চেষ্টাকে তারা ‘বিচারবুদ্ধির গভীর ব্যর্থতা’ এবং ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের সেবার জন্য ফিফা তৈরি হয়েছিল, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করে।
তিন কনফেডারেশন ফিফার নিজস্ব পর্যালোচনার বদলে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদন্তের দাবি জানায়। অন্যদিকে ফিফা বলে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে। তারা এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানায়।
গত সপ্তাহে মরক্কোতে এক বৈঠকের পর ফিফার ব্যবস্থাপনা বোর্ড ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানায়। এই সময় ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ প্রস্তাব নিয়ে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষমা চান। তবে উয়েফা বলে, এই ঘোষণায় তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।



