ফিফার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করেন সেফেরিন


উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ফিফার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে বিশ্বকাপের ফাইনাল বয়কট করেছেন বলে সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিফা রহস্যজনকভাবে স্থগিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ওই লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উয়েফা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়। তাদের মতে, ইনফান্তিনো আয়োজক দেশের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। উয়েফা ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য এবং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে এবং জানায়, এটি একটি লাল রেখা অতিক্রম করেছে।
উভয় সংস্থার মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি কারণ ছিল, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নীরবতা। এর জবাবে উয়েফা আগামী মাসের সুপার কাপ ফাইনালের দায়িত্ব আরতানের ওপর অর্পণ করে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে খেলা অন্য দলগুলোর মতো ইরানকে সমানভাবে আচরণ নিশ্চিত করতেও ফিফা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি অভিযোগ করেন, তার দলই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, ইরান টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি আনন্দে নেচেছেন।
উয়েফা এখন পর্যন্ত ফিফার বিশ্বকাপে চালু করা কয়েকটি নতুন নিয়মও গ্রহণ করেনি। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রেশন ব্রেক, ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ ভিএআর প্রোটোকল, যার কারণে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছিলেন এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে কার্ড দেখানোর নিয়ম।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ৪৮ দলের সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট নিয়েও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন সেফেরিন।
নিজ দেশ স্লোভেনিয়ার একটি পত্রিকায় তিনি বলেন, “অনেক ম্যাচই আছে, যেগুলো একেবারেই আকর্ষণহীন।”
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।
উয়েফা জানিযে়ছে, ২০২৮ সালে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তারা ‘ফ্যান ফার্স্ট’ নীতির আওতায় দুটি টিকিট ক্যাটাগরি বজায় রাখবে। সংস্থাটির দাবি, মোট টিকিটের ৪০ শতাংশের দাম হবে হয় ৩০ পাউন্ডের অথবা ৬০ পাউন্ডের নিচে। পাশাপাশি তারা ডাইনামিক প্রাইসিং পদ্ধতি চালু না করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



