টাঙ্গাইল

৬ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি হত্যাকারীরা: বিচার দাবিতে মানববন্ধন

রাব্বি ইসলাম, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় খুন হওয়া কিশোর মুন্না দেওয়ান (১৭) হত্যার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হয়নি হত্যাকাÐের সাথে জড়িত কোনো আসামীই।

এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকারীদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়া দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকীসহ, জনপ্রতিনিধি, শিশু,নারী-পুরুষসহ প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা মুন্না হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীদের শাস্তি চাই, সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই ইত্যাদি ¯েøাগান দেন।

ঘটনা সুত্রে জানা যায়, গেল রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের কুমারজানী গ্রামে আজিজুল মেম্বারের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে শাহধারীপাড়া মাদরাসার পেছনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা দলবদ্ধ কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের মির্জাপুর উপজেলার কয়েকজনের উপর রাতের আধাঁরে হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে কয়েকজনকে আটকে রাখে। পরে হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ করে বলে, “তোদের গ্রামে খবর দে, সাহস থাকলে ছাড়িয়ে নিয়ে যাক।” মুঠোফোনে এ খবর পেয়ে নিহত মুন্না ও তার বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসময় মুন্না ও তার এক বন্ধুকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।

এসময় মুন্না মাথায় বেশ আঘাতপ্রাপ্ত হয় ও রক্তক্ষরণ হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাকে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে আরও একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ঘটনার ৩দিন পর মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মুন্নার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মারামারির রাতেই দেলদুয়ার থানায় নিহত মুন্নার চাচা বাদী হয়ে চিহ্নিত ৬ জন ও অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত সকল আসামীই ধরাছোয়ার বাইরে। এ কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা পুলিশ-প্রশাসনের ভ‚মিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খাঁন বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যামামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ