মুন্সিগঞ্জ

শ্রীনগরে মাদ্রাসায় শিক্ষক অব্যাহতির ঘটনায় অপপ্রচারের অভিযোগ

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার কোলাপাড়া বাজার সংলগ্ন জামিয়া মাদানিয়া কোলাপাড়া মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়ার এলাকার একটি মহল অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আবু তাহেরকে মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও মিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে এলাকায় একটি মহল বিদায়ী শিক্ষকের আবু পক্ষ নিয়ে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার শুরু করলে উত্তপ্তের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আবু তাহের মাদ্রাসার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত কাজকর্ম করতেন। এমনকি কয়েকজন ছাত্রকে ব্যক্তিস্বার্থে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে গ্রুপিং সৃষ্টি করে আসছিল।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে আবু তাহেরের ক্লাস রুটিনের বাহিরে ছাত্রদের পাঠদান ও মাদ্রাসা বন্ধের দিনে তার অনুসারী কিছু ছাত্রদের পাঠদানের নামে বাড়তি ক্লাস করিয়ে মাদ্রাসার নিয়ম ভঙ্গের প্রশ্ন উঠলে মাদ্রাসার মুহতামিম সহকারী শিক্ষক আসরাফ আলী কাসেমীসহ অন্যদের নিয়ে শিক্ষক আবু তাহেরকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেন। এসময় আবু তাহেরের অনুসারী কয়েকজন ছাত্র হট্রগোল শুরু করে। এবং শিক্ষক আশরাফ আলী কাসেমীকে জড়িয়ে উচ্চবাচ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এবিষয়ে আবু তাহেরকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাবধান করলেও আবু তাহের ছাত্রদের নিয়ে গ্রুপিং শুরু করেন। কোনও কর্ণপাত করেনি। পরে মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের ডাকা এক সভায় সকলের সম্মতিক্রমে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু তাহেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শিক্ষক আবু তাহের চলে গেলেও একটি মহলকে উস্কানীমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে মাদ্রাসায় উত্তপ্তের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে মাওলানা আবু তাহের নামে ওই শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফ আলী কাসেমী বলেন, বাস্তব সত্য হলো মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ উঠার পরও শিক্ষক আবু তাহেরের মধ্যে কোন ধরণের অনুশোচনা আসেনি।

জামিয়া মাদানিয়া কোলাপাড়া মাদ্রাসার মুহতামিম মো. আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষক অব্যাহতির বিষয়টি কারও একার সিদ্ধান্ত নয়, এটি কর্তৃপক্ষের সকলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু একটি মহল এটিকে অন্যদিকে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. হারুন অর রশিদ জানান, মাদ্রাসার সুরা সদস্য, আমেলা সদস্য ও শিক্ষক সদস্য সকলের সম্মতিক্রমে শৃঙ্কলা ভঙ্গের অভিযোগে শিক্ষক আবু তাহেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে মাদ্রাসাটি এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ