ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী


শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’টি স্কুল বাস প্রদান করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাস দু’টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষার পরিবেশকে আরো সহজ, সুন্দর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি ও জনজীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরো গতিশীল করতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।
বাস হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে এক মানবিক মুহূর্ত। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন থেকে জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থী মাহফুজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মাহফুজের জীবনের গল্প যেমন বেদনার, তেমনি তার সাফল্য অনুপ্রেরণার। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক দুর্ঘটনায় একটি পা হারালেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পড়াশোনা ও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি। দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও মেধার জোরে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী মাহফুজের কাছ থেকে তার স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চান। তার জীবনের সংগ্রাম ও শারীরিক কষ্টের কথা শুনে প্রতিমন্ত্রী তাকে উৎসাহিত করেন এবং তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মাহফুজের জন্য নিজের তহবিল থেকে একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন তিনি। একইসঙ্গে তার ভবিষ্যৎ পড়াশোনার সব খরচের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেধা ও ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো প্রতিকূলতাই বড় নয়। মাহফুজের সাফল্য আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা। তার স্বপ্নপূরণের পথে আমরা পাশে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন, সমাজের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক, শারীরিক বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে তার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না পড়ে—এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



