আড়িয়ল বিলে প্রতিদিন লাখো টাকার শাপলা বিকিকিনি

আরিফুল ইসলাম শ্যামল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আড়িয়ল বিল পাড়ের মানুষ বর্ষা মৌসুমে বেকার সময়কে কাজে লাগিয়ে শাপলা কুড়িয়ে হাজার হাজার টাকা আয় করছেন। এই সিজনে আড়িয়ল বিলে কৃষিকাজ না থাকায় উন্মুক্ত জলাশয়ে জন্মানো শাপলায় তাদের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে।
তাই নিম্ন আয়ের শতশত মানুষ ডিঙ্গি কোষা নৌকা নিয়ে আড়িয়ল বিলের শাপলা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন। কয়েকঘন্টা শাপলা কুড়িয়ে একেকজন কমপক্ষে হাজার টাকা আয় করতে পারছেন। আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখ টাকার শাপলা কেনাবেচা হচ্ছে।

জানা গেছে, সূর্য ওঠার আগেই নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা বেরিয়ে পড়েন আড়িয়ল বিলে শাপলার তুলতে। দুপুরের আগেই নৌকা ভর্তি করে শাপনা নিয়ে ফিরছেন তারা। আড়িয়ল বিল এলাকার শ্রীনগর অংশের গাদিঘাট, আলমপুর, লস্করপুর, মদনখালী, শ্রীধরপুরসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে পাইকারদের কাছে এসব শাপলা বিক্রি করা হয়। দৈনিক গড়ে ১০/১২ ট্রাক শাপলা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন সবজির পাইকারির হাটবাজারে।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে তেমন কাজ না থাকায় জীবন ও জীবিকার তাগিদে জীবনযুদ্ধে বিকল্প উপার্জন হিসেবে শতশত যুবক ও বৃদ্ধ শাপলা বিক্রির আয়ে সংসার চালাচ্ছেন। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব শাপলাকে আল্লাহ্’র নিয়ামত হিসাবেই দেখছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাদিঘাট সড়কের পাশে নৌকা থেকে শাপলা নামানো হচ্ছে। আমিনুল, আল-আামিন, জনি বলেন, আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন স্থান থেকে শাপলা সংগ্রহ করেন। বর্ষায় কৃষি কাজ না থাকায় বিনা পূজিতে শাপলা বিক্রি করে কামাই হচ্ছে তাদের। পাইকারের কাছে প্রতি আটি (৬০ পিস) শাপলা ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দৈনিক ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারছেন তারা।
মো. মোয়াজ্জেম নামে একজন বলেন, বিল পাড়ের অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার শাপলা বিক্রির টাকা সংসার চালাচ্ছেন। আলমপুরের আয়নাল হক নামে একজন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৩ ট্রাক শাপলা সংগ্রহ করে রাজধানীতে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, গাদিঘাট থেকে প্রতিদিন ৪/৫ ট্রাক শাপলা ঢাকায় কারওয়ান বাজার, যাত্রবাড়ি ও সাভার সবজির পাইকারী বাজারে পাঠাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রতি আটি শাপলা ১৬ থেকে ২০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে।



