৭ কিলোমিটার হেঁটে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী


দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও রাজপথের শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পৌঁছান তিনি।
শনিবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।
এতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
শোভাযাত্রার সামনের সারিতে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাঁটেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।
নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পৌঁছায়। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সেখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।
সবশেষ ২০০৫ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় দলের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও রাজপথের শোভাযাত্রায় দেখা গেল তাকে। তবে এবার তার পরিচয় ভিন্ন। তিনি এখন বিএনপির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে নয়াপল্টনে শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়া ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আবার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছিল এবং স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল।
তারেক রহমান আরও বলেন, পরাজিত শক্তি আবারও ষড়যন্ত্র করছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে আসা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মানুষের জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা রক্ষা করতে হবে।
শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানুল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে শোভাযাত্রা।



