মন্ত্রী-এমপি নয়, মুক্তিযোদ্ধা বাবার পরিচয়েই গর্বিত: ইশরাক হোসেন


বাবার রাজনৈতিক জীবনের নানা অর্জনের চেয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়কেই সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় বলে মনে করেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা মেয়র হওয়া নয়, একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হওয়াই তার বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর গোপীবাগ শহীদ জিয়া মাঠে বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক বলেন, তার বাবা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রী ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এসব পরিচয়ের চেয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাবার পরিচয় নিয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করেন।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ভেঙে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সৌভাগ্য সবার হয় না। অনুষ্ঠানের মঞ্চেও কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত রয়েছেন, যারা সেই গৌরবময় ইতিহাসের অংশ ছিলেন। তার বাবাও তাদের একজন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের পরিচয়ের সূত্রপাত হয়েছিল একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেই বীরত্বগাথার সঙ্গে তার বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।
বাবার রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পথচলায় নানা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তার বাবা যদি কোনো সময় কারও সঙ্গে রূঢ় আচরণ বা কঠোরতা দেখিয়ে থাকেন এবং তাতে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে সবার কাছে বাবার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। সবাই যেন তাকে ক্ষমা করে দেন এবং মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করেন, সে জন্য দোয়া চান তিনি।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বাবার সন্তান হিসেবে আগামী দিনে নীতি ও আদর্শের সাথে বিন্দুমাত্র আপস না করে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবো। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকসহ বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমাধান করতে চান। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।



