ভোলায় ৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ


ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা জেলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। জেলার ৩টি ভিন্ন উপজেলার এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। জেলা শিক্ষা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ২টি কলেজ এবং ১টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
তালিকায় দেখা যায়, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান ৩টির মধ্যে ভোলা সদর উপজেলার মেদুয়া কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন। লালমোহন উপজেলার রামগঞ্জ সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একইভাবে চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ থেকেও ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, তবে তাঁদের মধ্য থেকেও কেউ পাস করেননি।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলার ৫৯টি কলেজ থেকে মোট ৯ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ৭৭২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ হাজার ৭৬৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে জেলায় মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৫৪ শতাংশ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৬টি জেলার মধ্যে পাসের হারের দিক থেকে ভোলা জেলার অবস্থান পঞ্চম।
ভোলার ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক হলো জিপিএ-৫। এ বছর জেলার ৭৯ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট (জিপিএ-৫) অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ১৯ জন ছাত্র এবং ৬০ জন ছাত্রী রয়েছেন, অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন। বিজ্ঞান ও মানবিকসহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পেলেও বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় ফলাফল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত হয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



