রাজনীতি

৭ দফা না মানলে ১ দফা অনিবার্য: ডা: শফিকুর রহমান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ সমাবেশ শুরু হয়।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশে যোগ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন। সমাবেশের শুরু থেকেই শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশে যোগ দেন। একপর্যায়ে স্টেডিয়ামের পুরো মাঠ জনসমাগমে পূর্ণ হয়ে যায়।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সমাপনী সমাবেশে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

এ সময় ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ৭দফা নিয়ে মাঠে নেমেছি এটা জনগণের দাবি। আপনাদেরকে বর্তমান সরকার অপমান করেছে, আমরা তার প্রতিবাদ জানাতে এবং আপনাদের সাথে একত্রিত হয়ে তার প্রতিশোধ নিতে আমরা এখানে এসেছি৷ আপনারা ৭০ ভাগ জনগন চেয়েছিলেন একটা পট পরিবর্তন। রাজনীতির নোংড়া ধারাকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে নতুন একটা বাংলাদেশ আপনারা চেয়েছিলেন। ১৪শোর অধিক আমাদের সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে একটি বাংলাদেশ আমাদেরকে উপহার দিয়েছিলো। আমরা সবাই সেই শহীদদের কথা বলি, কিন্ত আপসোসের বিষয় এই সরকার শহীদদের সম্মান করে না। তাদেরকে সম্মান যদি করতো, তাহলে শহীদদের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে, একটা বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে শর্ত রেখেছিলো, ন্যায় বিচার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলো, তারই দলিল হচ্ছে জনগণের গণভোট। সেটা মানলো না। এক মায়ের জময দুই সন্তান, হয় দুইটাই বৈধ না হয় দুইটাই অবৈধ। তাদের কাছে গণভোট অবৈধ হয়, আর সংসদ ভোট বৈধ হয়, কি চমৎকার। একই তরকারির গোস্ত হালাল, সুরুয়া হারাম” এই ফতুয়া তারা সংসদে দিচ্ছেন। এমনটা আমরা চাইনি, এমন একটা আন্দোলন বাংলাদেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথায়, আমরা চেয়েছিলাম জনগণের মূল্যবান ভোটে সংসদ গঠিত হয়েছে। অনুরূপভাবে একটা সংস্কার পরিষদও গঠিত হবে এবং তারা সংসদে বসে এর ফায়সালা করবে। যেহেতু কায়দা করে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা দুই তৃতীয়াংশের সিট দখল করে নিয়েছে। এ জন্য তারা সকলে এক হয়েছে। আমরা তাদেরকে স্মরন করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, ইতিহাসে যখনি জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট দলকে গোষ্ঠীকে পরিনতি ভোগ করতে হয়েছে। ভালোই ভালোই মেনে নিন। আমাদের একটা দাবিও আমাদের দলীয় দাবি না, সবগুলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। ৭দফা দাবিগুলো যদি মেনে নেন, তাহলে এক দফা দাবি করা হবে না। আর যদি ৭দফা যদি মেনে না নেন, তাহলে এক দফা অনিবার্য হবে। সেই এক দফা দাবি আমরা জনগণের স্বার্থে, অধিকার আদায়ের স্বার্থে দিতে বাধ্য হবো।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট উত্তরণে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান। তাঁরা দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন বলেন, কুষ্টিয়ার মানুষ লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এ জনসমাগম মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। তিনি কর্মসূচি সফল করতে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এই বিভাগের আরও সংবাদ